
বেশি,
তুমি আমার রক্তের সাথে মিশে আছ।
এসব অবান্তর কথা গুলো আমরা পাতানো সম্পর্কের মানুষ গুলোর জন্যই
বলে থাকি।
কিন্তু আসলেই কি এরা কেউ ভাই-বোনের মতো হতে পারে?
কেউ কি রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই কারো রক্তের সাথে মিশতে পারে? আমরা জীবনে চলার পথে প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে এভাবে অনেক গুলো মানুষকে হৃদয়ের বিশেষ স্থানে আবদ্ধ করি। কিন্তু আসলেই কি এরা এই বিশেষ স্থানের যোগ্য-
তা আমরা চিন্তা করিনা।
নিজের ভাই-বোনের জীবনে কি চলছে সেটাই আমরা কখনো জানতে চাইনা। কোথায় আছিস কেমন আছিস খবর রাখিনা। শেষ কবে পরিবারের মানুষের সাথে মন থেকে হেসে কথা বলেছি তাও
আমাদের অনেকের মনে থাকে না। কিন্তু এই পাতানো সম্পর্কের মানুষ গুলোর মন খারাপের প্রতিটা মুহুর্তের
আমরা মনে ধারণ করে রাখি, তাদের আগলে রাখি।
মন ভালো করার দায়িত্ব পালন করি। তাদের সমস্যা গুলোকে নিজের সমস্যা
বলে মনে করি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় কি জানেন এদের পাশে কাউকে দরকার হয় না, এরা খুবই স্ট্রং হয়। প্রয়োজনের বাইরে এরা কাউকে জীবনে রাখেনা।
বাকী রইলো রক্তের সাথে মিশে যাওয়া মানুষগুলো। আচ্ছা আমরা কি ঠিকঠাক ভাবে রক্তের সম্পর্কের মানুষ গুলোর খোঁজ রাখি???
মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, চাচা, মামা এই মানুষ গুলোই তো আমাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়। উনাদের খবর আমরা রাখি না বললেও চলে। আমরা আত্মীয়ের চেয়ে অনাত্মীয়দের পিছনেই জীবনের অর্ধেকটা সময় নষ্ট করি।
কিন্তু সেই অনাত্মীয় গুলো এক নিঃশ্বাসে আপনার সব ভালোবাসাকে অস্বীকার করে আপনাকে ছিটকে ফেলে দিতে এক বারও ভাববে না।মনে করেন আপনার খুব কাছের একজন বন্ধু আছে, যাকে আপনি পরিবারের একজন ভাবেন।
অথবা আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে রক্তের সাথে মিশে গেছে ভাবেন।
এই পাতানো সম্পর্কের মানুষ গুলো যদি একদিন বলে-
আপনি তার বন্ধু নন, ভালোবাসার মানুষটা যদি হঠাৎ করে বলে-
সে আপনাকে ভালোবাসেনা। তখন আপনি হাজার চিৎকার করে বললেও এসব মিথ্যেই থাকবে। মুহুর্তেই সব সম্পর্ক কখনো ছিল না বলেই মানতে হবে। অবশেষে কোনো এক সময় আপনার নিজেকেই দোষী মনে হবে।
আর আপনার আসল আত্মীয়, পরিবার, ভাই-বোন, এরা অস্বীকার করলেও আপনার সাথে তাদের সম্পর্ক কখনো মিথ্যে হবে না।সারাজীবন রক্তের সম্পর্কের মানুষ গুলোই আপনার কাছের মানুষ থাকবে, এটা সত্য। যোগাযোগ থাক বা না থাক এরাই আপনার আপনজন।
অনেকে হয়ত যুক্তি দেখাবেন “ঘর থেকে পর ভালো”। কিন্তু আরও একটা উক্তি আমাদের মনে রাখা উচিত “পর কখনোপন হয় না”।
ভালোবাসার।।।

Leave a comment